শাহজালাল (রহ.) দরগাহের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনা।


হাকিকুল ইসলাম খোকন ও মো. নাসির: 

সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী দরগাহে দান-অনুদান প্রদান করেন। ফলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা হয়। এই অর্থের সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, ব্যয় এবং তদারকি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে।

সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে দান-অনুদানের অর্থ গণনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল হিসাব সংরক্ষণ, নিয়মিত নিরীক্ষা (অডিট) এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় বিতর্কও কমবে।

এই আলোচনায় সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমের নামও উঠে আসছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি দরগাহের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন বা পৃথক কোনো সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তিনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে শক্তিশালী ও স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, দরগাহ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের অনেকেই দান-অনুদানের অর্থের নিয়মিত হিসাব প্রকাশ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত হলে দরগাহের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের সুযোগ কমে আসবে।

এ বিষয়ে সহ-প্রতিবেদক মো. নাসির বলেন, "ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে জনস্বার্থে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক হিসাব-নিকাশ চাওয়া ধর্মের বিরোধিতা নয়; বরং এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকেও সবাইকে বিরত থাকতে হবে।"

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে পুনর্বহাল করা হতে পারে—এমন বিভিন্ন দাবি প্রচারিত হলেও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়নি। তাই এ ধরনের তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দরগাহের দান-অনুদান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে কী ধরনের নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই সবার দৃষ্টি।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন