জামালপুরে অনুমোদন ছাড়াই ৩৩ কেভি লাইন নির্মাণের জন্য খুঁটি সরানোর অভিযোগ ফরহাদ আলীর বিরুদ্ধে


জামালপুর প্রতিনিধিঃ 

জামালপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের ৩ নম্বর শহর ফিডারের আওতাধীন শেখের ভিটা সাব স্টেশনের পাশে এলাকায় যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া খুঁটি সরানোর অভিযোগ উঠেছে পিডিবি অফিসের কর্মচারী ফরহাদ আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের সংগ্রহ করে রাখা দুটি বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে শেখের ভিটা এলাকায় নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বিদ্যুৎ বিভাগের অবকাঠামো ও সরঞ্জাম নির্ধারিত অনুমোদন ও প্রক্রিয়া ছাড়া স্থানান্তর করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জামালপুর বিদ্যুৎ বিভাগের এলপিআরে কর্মরত এবং জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জামালপুর সিবিএর সহসভাপতি (সুইচবোর্ড অপারেটর) এসবিএ ফরহাদের নেতৃত্বে এক গ্রাহকের বাড়ির পাশ দিয়ে থাকা ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ রয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় জামালপুর শহরের পশ্চিম ফুলবাড়িয়া এলাকায় জহুরুলের ফিশারির সংলগ্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিভাগের সংগ্রহ করে রাখা খুঁটি থেকে দুটি খুঁটি সরিয়ে শেখের ভিটা এলাকায় নেওয়া হয়। তবে খুঁটি দুটি স্থানান্তরের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাবুল নামে এক লাইন মিস্ত্রি অনেকটা গোপনে খুঁটি দুটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

এ সময় খুঁটি সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে লাইন মিস্ত্রি হাবুল বলেন, “এসবিএ ফরহাদ খুঁটি দুটি সেখানে নিয়ে এসেছিলেন। পরে তার নির্দেশেই খুঁটি দুটি আগের জায়গায় রেখে আসতে বলা হয়েছে।”

তার বক্তব্য থেকে প্রশ্ন উঠেছে, খুঁটি দুটি প্রথমে কার নির্দেশে এবং কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে শেখের ভিটা এলাকায় নেওয়া হয়েছিল। পরে আবার কেন সেগুলো সরিয়ে আগের স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিভাগের খুঁটি যদি যথাযথ অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে তা করা হয়েছিল?

তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের অবকাঠামো ও সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি উপেক্ষা করা হয়ে থাকলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক অনিয়মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সরকারি

ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসবিএ ফরহাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জামালপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিবুল আজাদ রুবেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত নেই।” পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন স্থানান্তর কিংবা সরকারি বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কোনো সরঞ্জাম এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত অনুমোদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হোক।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন