মেলান্দহে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৪


জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের সাধুপুর এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, গাছপালা ভাঙচুর, মারধর ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোছাঃ সুজানা বেগম (৫০) বাদী হয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ঘটনার বিষয়ে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে সরতুল্লাহ মন্ডল, লিয়াকত আলী, বিপুল, রাকিব, নাইম, লাভলী বেগম ও হামিদা বেগমসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাধুপুর এলাকায় বাদীপক্ষের একটি গাছের বাগান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশও হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের গাছের বাগানে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ৩ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় বাদীর দেবর মোঃ শফিকুল ইসলাম বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং ধারালো দা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি মাথায় কাটা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বলে দাবি বাদীপক্ষের।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শফিকুলকে রক্ষা করতে তার ছেলে মোঃ সুজন এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে সুজনের ভগ্নিপতি রাসেল রানা ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে চিৎকার শুনে বাদী সুজানা বেগম ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর, চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া এবং পরনের কাপড় ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার অভিযোগও করা হয়েছে।

বাদীর আরও অভিযোগ, তিনি মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, এবং কানে থাকা প্রায় ৪ আনা ওজনের সোনার দুল, যার আনুমানিক মূল্য ৫৫ হাজার টাকা—ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পরে আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা যাওয়ার সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাদী সুজানা বেগম, তার ছেলে সুজন, ভগ্নিপতি রাসেল রানা ও দেবর শফিকুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাদী।

তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন