মোঃ মুনতাসিম বিল্লাহ নাহিদ, ক্রাইম রিপোর্টার:
জামালপুরে আওয়ামী লীগ নেতার দাপট খাটিয়ে আব্বাস আলী নামের এক ব্যক্তির জমি দখল করে সেই জমি অন্যের নিকট বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল সালাম নামের এক ব্যক্তির ওপরে। জামালপুর সদর উপজেলার ৭ নং বাঁশচরা ইউনিয়নের জামিরা এলাকায় এ গঠনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জামালপুর সিভিল জজ আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে বিষয়টি সম্পুর্ণ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের চক্রান্ত বলে দাবী করছেন অভিযুক্ত আব্দুল সালামের পরিবার।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাঁশচরা ইউনিয়নের জামিরা এলাকায় আব্বাস আলী বসবাস। সেখানে তাদের কয়েক শত শতাংশ পৈতৃক জমি রয়েছে। বেশ কিছু বছর আগে আব্বাস আলী ও তার বোন বানেছা বেগম আব্দুল সালামের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মূল্যে ৩৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেছিলো। কিন্তু সেই সময় আব্দুল সালামের বেয়াই আব্দুল মালেক ওই এলাকার ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার সহযোগী আব্দুল মুতালেব ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং সে নিজে আওয়ামী লীগের কর্মী থাকায় তিনি ৩৪ শতাংশ জমির মালিক হওয়ার পরও আব্বাস আলীর মালিকানাধিন ৭৫ শতাংশ জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নেয়। এবং জমিনের ভুয়া দলিল বানিয়ে নিজেকে ৭৫ শতাংশ জমির মালিক দাবি করেন। সে সময় বিষয়টি নিয়ে আব্বাস আলী ছেলে উজ্জল মিয়া প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের দিকে আব্দুল সালাম প্রতি শতাংশ ২০ হাজার টাকা মূল্যে সাড়ে ৩৭ শতাংশ জমি শামছুন নাহারের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরে ২০২৫ সালের মার্চ মাসের দিকে আব্বাস আলী ও বানেছা বেগম বাদী হয়ে আব্দুল সালাম ও শামছুন নাহারদের নামে জামালপুর সিভিল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর চলতি বছরের আগষ্ট মাসের শুরুর দিকে শামছুন নাহাররা ওই জমিতে ঘর উঠাতে গেলে আব্বাস আলী ছেলে উজ্জল মিয়া বাধা দেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন মীমাংসায় বসলেও আব্দুল সালাম স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে মীমাংসার বৈঠক থেকে চলে যায়। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সঠিক মালিককে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী আব্বাস আলীর ছেলে উজ্জল মিয়া বলেন, আমার বাবা ও আমার ফুপু সালামের কাছে ৩৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেছে। সেটাও পিছনের দিকে জমি। কিন্তু সালাম সেই সময় আওয়ামী লীগের দাপট খাটিয়ে আমাদের ৭৫ শতাংশ জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নিয়েছে। সেই সময় আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। তখন সে আমাকে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখাইছে। মেরে আমার পা ভেঙ্গে দিতে চেয়েছে। সে পিছনের দিকে ৩৪ শতাংশ জমির মালিক হওয়ার পরও ৭৫ শতাংশ জমির মালিক দাবি করে ও সামনে থেকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ জমি কিভাবে বিক্রি করে? আমি গরিব মানুষ মামলা চালানোর মতো এতো টাকা আমার নেই। আমি প্রশাসনের কাছে দাবী জানাই আমার জমির কাগজ দেখে প্রশাসন যেনো দ্রুত জমির সঠিক মালিককে জমি বুঝিয়ে দেয়।
আব্দুল সালামের কাছ থেকে যে জমি ক্রয় করেছে সেই শামছুন নাহার বলেন, এসব ভেজাল সালাম লাগিয়েছে, তার মধ্যেই সব ভেজাল। তিনি জমির মালিক না হয়েও আমাদের কাছে জমি বিক্রি কেন করলো। আমি এতো কিছু বুঝি না। সালাম আমাকে জমির টাকা ফেরত দিলে আমি এখনি জমির দখল ছেড়ে দিবো।
বাঁশচরা ইউনিয়ন যুবদলের সহ সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা অনেকবার এ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের সাথে মীমাংসার জন্য বসেছি। কিন্তু সালাম কারো কথা মানে বা শুনে না। বৈঠকের মাঝখান থেকে সে উঠে চলে যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন