মেলান্দহে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভোজ্য তেল উৎপাদনের অভিযোগ, সরেজমিনে মিলল উদ্বেগজনক চিত্র।


নিজস্ব প্রতিবেদক :

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার পৌরসভার শাহজাতপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতবাড়িতে পরিচালিত তেল উৎপাদন কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কারখানাটিতে ড্রামে সংরক্ষিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে সরিষার তেল ও সয়াবিন তেল হিসেবে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

গত ২৬ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসতবাড়ির ভেতরে পরিচালিত কারখানাটিতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। কারখানার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ড্রামে তেল মজুত রাখা হয়েছে। অনেক ড্রামের মুখ খোলা অবস্থায় ছিল। চারপাশের পরিবেশ ছিল অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর। একই স্থানে সরিষা ভাঙানোর মেশিন দেখা গেলেও তেল পরিশোধনের (ফিল্টারিং) কোনো যন্ত্রপাতি চোখে পড়েনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জাহাজে আমদানি হয়ে আসা ড্রামের তেল এনে সরিষার তেলের সঙ্গে মিশিয়ে বোতলজাত করে বাজারজাত করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে তেলের নমুনা সংগ্রহ ও ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।

সরেজমিন অনুসন্ধানের সময় কারখানার মালিক আলিম উদ্দিন অন-ক্যামেরায় বলেন, "তেলগুলো জাহাজে করে আসে। আমরা সেগুলো এনে ফিল্টার করে সয়াবিন তেল হিসেবে বাজারজাত করি।" তবে প্রতিবেদকের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে কারখানায় কোনো ফিল্টারিং মেশিন দেখা যায়নি।

এছাড়া কারখানাটিতে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, উৎপাদিত তেলের মান পরীক্ষার সনদ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে কি না—তা সরেজমিনে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বিষয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় ল্যাব পরীক্ষা অপরিহার্য।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে কারখানাটিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে তেলের নমুনা সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন